শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

গো-বক

-শরীফ খান
       একটানা মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে, একটি মহিষ খালপাড়ে দাঁড়িয়ে ভিজছে চুপচাপ।

অসহায়ভাবে বৃষ্টিতে ভিজতে থাকা মহিষটির পিঠে এক সারিতে দাঁড়িয়ে পাঁচটি বকও ভিজছে চুপচাপ। স্থির মহিষ ও বক। দৃশ্যটি দারুণ!


এই বকগুলো হলো আমাদের অনেকের চেনা পাখি গো-বক। গাই বগলা নামেও পরিচিত এরা। চালচলনে গোবেচারা ধরনের লাগলেও দুঃসাহসী, লড়াকু ও মেজাজি। সতর্ক, চতুর ও কুশলীও বটে। ইংরেজি নাম Cattle Egret। বৈজ্ঞানিক নাম Bubulcus ibis। দৈর্ঘ্য ৫০ সেন্টিমিটার। ওজন ৪৬০ গ্রাম। মাটির ওপর বা ঘাসবনের ভেতর দিয়ে যেমন মার্চ করতে পারে, তেমনি উড়ন্ত পোকা-পতঙ্গকে লাফ দিয়ে শূন্য থেকে পেড়ে ফেলতে পারে অ্যাক্রোব্যাটদের কৌশলে। মূল খাদ্য এদের পোকামাকড়, গিরগিটি, ব্যাঙ, টিকটিকি; গরু-মহিষ-ভেড়া-ছাগলের শরীরের পরজীবী পোকা-কীটসহ আটালি ও ডাঁশ মাছি। জোঁক এরা খায় না। তবে গবাদিপশুর নাকের ভেতরে, খুরের ফাঁকে, তলপেটে জোঁক লাগলে সেগুলো এরা টেনে বের করে ফেলে শালিকদের মতো। নাকের ভেতরে জোঁক ঢুকলে গবাদিপশু ‘হ্যাঁচ্চো’ দিতে থাকে। শালিক ও গো-বকেরা আসে। পশুটি মুখ নামিয়ে দেয়। নাকের ভেতরে ঠোঁট ঢুকিয়ে দিয়ে বের করে আনে জোঁক। জোঁকেরাও অতি বুদ্ধিমান। গবাদিপশুর এমন সব জায়গায় লাগে, যেখানে পশুটি জিভ দিয়ে চাটতে পারবে না, চাটা দিলে জোঁকের বাবারও সাধ্য নেই লেগে থাকে। গো-বক তাই গবাদিপশুর পরম বন্ধু। গবাদিপশু কাত হয়ে শুয়ে আছে, গো-বক কানের ভেতরের বা শিংয়ের গোড়ার আটালি বের করে খাচ্ছে—বাংলায় আজও এটি সাধারণ দৃশ্য। গবাদিপশু ঘাসবনে চরছে, নড়ছে ঝোপঝাড়, উড়ছে পোকামাকড়, খাচ্ছে গো-বকেরা। এটিও চিরচেনা দৃশ্য। এমনিতেও গো-বকেরা ঘাসবনে পাশাপাশি দলবেঁধে হাঁটে, নিজেরাই পা ও পাখা দিয়ে ঝোপঝাড়-ঘাস নাড়ায়, পোকামাকড় বের হলেই পাকড়াও করে। ঘাসবনের ওপর দিয়ে উড়তে উড়তে এরা দুই পাখার বাতাস ঢেলে পোকামাকড় বের করার কৌশল জানে। শুধু পোষা প্রাণী নয়, বুনো শূকর, হরিণ, হাতি ইত্যাদির সঙ্গে একই কারণে বন্ধুত্ব গো-বকের। এরা দিবাচর। তবে প্রয়োজনে নিশাচর হতে পারে।

প্রজনন মৌসুমে গো-বকের ঠোঁট-মাথা-ঘাড়-বুক সোনালি-হলুদ হয়, ঘাড়-গলা-পিঠ-বুকে সুতা পালক গজায়। যেন সোনার সুতা। এমনিতে এদের রং বরফসাদা।

বাসা করে গাছের ডালে। কলোনি বাসা। ডিম দেয় তিন থেকে পাঁচটি। দুজনেই তা দেয়। ডিম ফোটে ২০ থেকে ২৫ দিনে। ঢাকা শহরেও বাসা করে।

source:প্রথম আলো

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১৬

শব্দ চাই

শব্দ চাই
আমি কিছু নির্মল শব্দ চাই
যারা অনাবিল,স্বচ্ছ।

আমি কিছু শব্দ চাই
যারা মানবতার কথা বলে,যারা মনুষ্যত্বের কথা বলে।

আমি কিছু শব্দ চাই
যারা শোষণ – নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর তোলে।

আমি কিছু শব্দ চাই
যারা হৃদয়ের কথা বলে, যারা অন্তরাত্মার বুলিকে জাগিয়ে তোলে।
আমি কিছু এসব শব্দ সংসর্গী  মানুষও চাই।
                       -১১.২৯am, Nobinbag,Gopalganj.

বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০১৬

অজ্ঞাত

" অজ্ঞাত "

তোমাকে কোন মহাকাব্য শুনাতে আসিনিI
বা শুনাতে আসিনি কোন সভ্যতার ইতিহাস।
তোমাকে শুনাতে আসিনি জীবনানন্দের কবিতা সমগ্র 
বা কোন রোমান্টিক উপন্যাস ।
তোমাকে শুনাতে আসিনি জ্যোৎস্না রাতে
নিকুঞ্জে বসে দুজনের প্রেম কিংবা অভিমানের কথা।
তোমাকে কোন মহৎ আবিষ্কারক আর
তার আবিষ্কারের গল্প শোনাবার ইচ্ছাও আমার নেই
চাঁদ কিংবা সূর্যের গল্প, চারটে হাতি পৃথিবীকে ধরে রাখা, 
ভিন্ন গ্রহবাসি এলিয়েনের গল্প ,
দেও-দানবের গল্প 
বা কাজলরেখার গল্প 
কোনটাই শোনানোর ইচ্ছা আমার নেই ।

তোমাকে শুধু বলতে এসেছি 
ঝোপের পাশে ফুটে থাকা এক বুনোফুলের গল্প।
সেও এসেছিল সবার মত,
বেড়ে ওঠেছিল আলোছায়া খেলা বনের পাশে
অতি সাধারণভাবে প্রকৃতির যতনে।
তার ছিল সুরভিত করার অনন্য সৌরভ 
কিন্তু সে কখনও যেতে পারেনি
দেবতার অর্ঘ্যে 
কিংবা হতে পারেনি প্রেমিকের দেওয়া 
প্রেমিকার অনুরাগের ফুল।
তার খবর ও কেউ রাখেনি
যেমনি এসেছিল, তেমনি চলে গেল অজ্ঞাতে।
রেখে গেছে শুধু নিজেকে শূন্যে মিলিয়ে দেবার মহত্ত্ব ।

20/12/15In Facebook,

একজন

নীলিমার নীল 
সমুদ্রের উত্তাল জলরাশি
উত্তরের শ্বেতশুভ্র পর্বতমালা 
সিন্ধুর উর্বর শস্য ভূমি।
উন্নত বিশ্বের উন্নত কোন যন্ত্র 
বা বিশ্ব বিধ্বংসী মারণাস্ত্র
কোনটাই আমার চাই না,
আমি চাই,
লাখো মানুষের মাঝ থেকে এক জন মানুষ।

In Facebook

কোথা পাবি মন

Review of "কোথা পাবি মন ওরে মন" by Subhamita
"কোথা পাবি মন ওরে মন আমার মন ভালোবাসা,
দ্বিধাহীন সব প্রশ্নের ভীড় হয়ে সুনিবিড় জিজ্ঞাসা
তোর হুল্লো দুটি চোখ চেয়ে আছে রে পথ
সে পথেই আছে মুক্তি, মহাকালেরই রথ।
তাই প্রতীক্ষা তোর গানে,তোর অঘোষিত তানে পায় ভাষা।
বুঝে নে রে মন,বুঝে নে রে মননে সব পাওনা দেনা,
বলে দে রে মন সব কিছুকেই কোনভাবে যায় না কেনা।
তাই আকাশে ছড়িয়ে দে রে তোর অভিমত
সে পথেই আছে মুক্তির মহাকালের রথ।
তাই প্রতীক্ষা তোর গানে,তোর অঘোষিত তানে পায় ভাষা।

ডেকে নে রে মন,ডেকে নে রে
তোর বলার ছন্দে তাকে
আঁধার নিঝুম স্থবির পথে দেখেছিলিস্ যাকে
ভুল পথের ধুলোয় চেনা সুর, চেনা রথ
সে পথেই আছে মুক্তি, মহাকালের রথ।
তাই প্রতীক্ষা তোর গানে,তোর অঘোষিত তানে পায় ভাষা।"
Source :
Album Name: Moner Hodish (2006) Subhamita
Album Artist: Nachiketa
Contributing Artist: Subhamita
Year: 2006
Genre: Jeebanmukhi
গান:Kotha-Pabi-Mon
পৃথিবীতে বাঁচতে হলে ভালোবাসা প্রয়োজন। কিন্তু এই ভালোবাসা তুমি কিভাবে পেতে পার?তুমি সেটা পেতে পার মনকে নিসংকোচ চিত্তে সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে।আমাদের মন যেটাকে ভালোবাসা বলে জানায় সেটাই হলো প্রকৃত ভালোবাসা।আর প্রকৃত ভালোবাসা কখনও আবদ্ধ করে রাখে না,সে মুক্তির পথ প্রদর্শন করে।এই মুক্তিই হলো আত্মার মুক্তি,মনের মুক্তি।এ পথ ধরেই মানুষ মহীয়ান হয়ে ওঠে।এ পথই তোমার অপেক্ষা করছে।তুমি তোমার মনের ভিতর এক বার ডুব দিয়ে দেখ তোমার ভালোবাসা তোমার জন্য কত যুগ যুগ অপেক্ষা করছে,শুধু তোমাকে পাবার আশায়।তোমার সব না বলা কথাগুলিও তার কাছে স্পষ্ট। তোমার ভালোবাসাই তোমার ব্যক্ত-অব্যক্ত সব কথাই বুঝতে পারে।তোমার উচিত সব সময়ই তোমার ভালোবাসার যত্ন নেওয়া।পৃথিবীতে যত পবিত্র কিছু আছে,তার মধ্যে ভালোবাসাও হলো পরম পবিত্র।তুমি তার সাথে অন্য কিছুর তুলনা করতে পার না।তুমি তাকে অর্থ দিয়েও ক্রয় করতে পার না।সত্য তো এটাই তুমি অর্থের বিনিময়ে আত্মিক কোন কিছু ক্রয় করতে পার না।তুমি সবসময় তোমার চিন্তা-ভাবনা,তোমার দর্শন,তোমার অভিমত বলিষ্ঠ কন্ঠে মুক্তভাবে প্রকাশ কর।তোমার এই চিন্তা-ভাবনা, তোমার দর্শন,তোমার অভিমত, তোমার দৃষ্টিভঙ্গিই তোমার ভালোবাসার খোঁজ দিবে।দিনশেষে দেখবে তোমার পথে তুমিই ঠিক ছিলে।তুমি কোন কিছুর মূল্যেই তোমার অভিমত, তোমার ভালোবাসাকে ত্যাগ কোরো না,কারন তোমার অভিমত, তোমার ভালোবাসাই তুমি।তোমার ভালোবাসা তো তখনই পূর্নতার পথে ধাবিত হবে যখন তুমি বুঝতে পারবে শুধু তোমার জীবনে তার নয় বরং তার জীবনে তোমার খুব বেশি প্রয়োজন।তোমার ভালোবাসাকে তুমি সবসময় নিজের মতো কোরে কাছে টেনে নেবে।যখন তুমি তোমার চারপাশে শুধু শূন্যতা দেখতে পাবে,চারিদিক অমানিশায় ভরে যাবে, তখন যাকে তুমি তোমার পথে দেখতে পাবে, জেনে নিও সেই তোমার ভালোবাসা।তাকে ভালোবাসার মধ্যেই রয়েছে তোমার মুক্তি।

প্রতিশ্রুতি

প্রতিশ্রুতি

     
       যে তোমাকে কোন একদিন কোন একটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারপর থেকে সদা-সর্বদা সেই প্রতিশ্রুতি ও তোমার মঙ্গল কামনায় তোমার অব্যক্ত কথাও রক্ষা করে ,সে তোমাকে ভালোবাসে?
নাকি,যে তোমাকে প্রতিদিন নতুন নতুন একটা প্রতিশ্রুতি দেয় সে?!!
সত্য কথা তো এটাই, সে তোমার কোন কথাই রক্ষা করে না যে তোমাকে প্রতিদিন নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।সে তোমার ব্যক্ত কথাই রক্ষা করে না আর অব্যক্ত কথার তো প্রশ্নই ওঠে না ।

শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৫

প্রকৃত পরিচয়

           প্রকৃত পরিচয়

                          -যাযাবর 

🌾নয়নের সম্মুখে যাহা কিছু দেখি 
কিছুটা সত্য তার, কিছুটা মেকি।
শব্দ যা শুনতে পাই সব সত্য নয়
কিছু শব্দ আছে যাহা নীরবতা বুঝায়।
যেমন বুকের কান্না, বেদনার সুর
কিছুটা প্রকাশ তার, বাকিটা অজ্ঞাতে ভরপুর।

কিছু প্রিয়জন আছে যাদের বন্ধু মনে হয়
পৃথিবীর সবাইকে তো বন্ধু নাহি কয়।
আত্মার সাথে সম্পর্ক যার আত্মীয়  তাকে বলে
বিপদে দিনে প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় মেলে।
ভর্ত্তার প্রিয় যে ভার্যা তাকে কয়
প্রেমের যোগ্য যে প্রেমিক সে হয়।